বিধি – তফসিল-৬ (ক্ষতিপূরণ মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আদালতের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি)

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তফসিল-৬

[বিধি ১৪৬ দ্রষ্টব্য]

ক্ষতিপূরণ মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আদালতের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি

(১) আবেদনপত্র:

(ক) ১৬৮ ধারায় উল্লিখিত যে কোন আবেদনপত্র রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে শ্রম আদালতের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে অথবা তাহার নিকট বা এতদুদ্দেশ্যে তাহার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট দাখিল করিতে হইবে এবং অনুরূপভাবে প্রেরিত বা দাখিলকৃত আবেদন শ্রম আদালত কর্তৃক ভিন্ন রকম কোন নির্দেশ না দেওয়া হইলে, দুই কপি প্রদান করিতে হইবে এবং আবেদনকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।

(খ) অনুরূপ সব আবেদনের সহিত আবেদনকারীর স্বাক্ষরিত এবং আবেদনপত্রে বর্ণিত বিষয় তাহার জ্ঞান ও বিশ্বাস মোতাবেক সঠিক এই মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র সংযোজিত থাকিতে হইবে।

(২) ভুল আদালতের নিকট দরখাস্ত দাখিল:

(ক) আবেদন গ্রহণ করিবার পর শ্রম আদালত যদি মনে করে যে, আবেদনটি অন্য আদালতের নিকট পেশ করা উচিত, তবে উহা পাইবার তারিখ উল্লেখসহ স্বাক্ষর করিয়া উহা ফেরত প্রদান করিবার কারণ ও কোন আদালতের নিকট উহা দাখিল করিতে হইবে উহা উল্লেখসহ দরখাস্তটি আবেদনকারীকে ফেরত প্রদান করিবে।

(খ) আবেদন গ্রহণ করিবার পর পরবর্তী কোন পর্যায়ে যদি আদালত নিশ্চিত হন যে, দরখাস্তটি অন্য কোন আদালতে পেশ করা উচিত ছিল; তবে উক্ত আবেদন যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালতের নিকট প্রেরণ করিবে এবং আবেদনকারীকে নিকট অবহিত করিবে।

(গ) অনুচ্ছেদ (খ) অনুযায়ী যে আদালতের নিকট দরখাস্ত স্থানান্তরিত করা হইয়াছে, সেই আদালত এমনভাবে বিবেচনা করিবে যেন প্রথমেই তাহার নিকট পেশ করা হইয়াছে।

(৩) আবেদন সম্পর্কে প্রাথমিক তদন্ত:

দফা (২) অনুসারে আবেদন খারিজ করা না হইলে, সঙ্গত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আদালত অন্য কোন পক্ষকে অবহিত করিবার পূর্বে দরখাস্তকারীকে তাহার আবেদনের অনুকূলে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করিতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত প্রমাণাদি বিবেচনার পর আদালত যদি মনে করে যে, দাবির পিছনে কোন সঙ্গত যুক্তি নাই তবে কারণ উল্লেখপূর্বক আদালত আবেদন খারিজ করিতে পারিবে।

(8) প্রতিপক্ষকে নোটিস প্রদান:

দফা (২) ও (৩) অনুসারে যদি আদালত আবেদন খারিজ না করিয়া থাকে তবে আদালত প্রতিপক্ষের নিকট উক্ত দরখাস্তের কপি এবং শুনানির তারিখ সম্বলিত একটি নোটিস প্রেরণ করিবে।

(৫) প্রতিপক্ষের হাজিরা ও জবানবন্দি:

(ক) প্রথম শুনানির সময় বা উহার পূর্বে প্রতিপক্ষ আবেদনের জবাবে একটি লিখিত বিবৃতি দাখিল করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ লিখিত জবাব মামলার রেকর্ডভুক্ত হইবে;

(খ) প্রতিপক্ষ যদি দাবির বিরোধিতা করিতে চাহেন এবং যদি কোন লিখিত জবাব দাখিল না করেন তবে আদালত তাহার জবানবন্দি গ্রহণ এবং সারাংশ লিপিবদ্ধ করিবে।

(৬) বিচার্য বিষয় নির্ধারণ:

(ক) কোন লিখিত জবাব বিবেচনা এবং পক্ষসমূহের জিজ্ঞাসাবাদের ফলাফল বিবেচনার পর, আদালত কোন কোন ঘটনা বা আইনের বাস্তব প্রশ্নে পক্ষগণের মধ্যে দ্বিমত রহিয়াছে সেইসব বিষয় নিরুপণ করিয়া বিচার্য বিষয় পৃথকভাবে নির্ধারণের জন্য অগ্রসর হইবে এবং তাহার মতে মোকদ্দমার সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য যেসব বিষয় নিষ্পত্তি প্রয়োজন অনুরূপ বিচার্য বিষয়সমূহ রেকর্ড করিবে;

(খ) বিচার্য বিষয় রেকর্ড করিবার সময়, আদালত স্বীয়মতে ঘটনা সম্পর্কিত বিচার্য বিষয় এবং আইন সম্পর্কিত বিচার্য্য বিষয়সমূহ পৃথক করিবে।

(৭) আইনগত বিচার্য বিষয় উত্থাপিত হইলে ঘটনাগত বিচার্য বিষয়ে বিচার স্থগিত করিবার ক্ষমতা:

কোন ক্ষেত্রে একই মোকদ্দমায় আইনগত এবং ঘটনাগত বিচার্য বিষয় উত্থাপিত হইলে এবং যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কেবল মাত্র আইনগত প্রশ্নেই মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব, সেই ক্ষেত্রে আইনগত বিচার্য বিষয়সমূহ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাগত বিষয়ের নিষ্পত্তি স্থগিত রাখিতে পারিবে।

(৮) ডায়েরী:

আদালত তাহার স্বাক্ষরে আবেদনপত্রসমূহের উপর গৃহিত কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বর্ণনার একটি ডায়েরী সংরক্ষণ করিবে।

(৯) মূলতবীকরণের কারণ রেকর্ড করা:

আদালত যদি মনে করে যে, একটি শুনানিতে কোন আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয় এবং অধিক শুনানির জন্য মূলতবী রাখা প্রয়োজন তাহা হইলে উহার কারণসমূহ রেকর্ডভুক্ত রাখিবে।

(১০) রায়:

(ক) আদালতকে আদেশ প্রদানের সময় প্রতিটি বিচার্য্য বিষয়ে উহার সিদ্ধান্ত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণসমূহ সংক্ষিপ্তভাবে রায়ে উল্লেখ করিতে হইবে; এবং

(খ) আদালত উহার রায়ে স্বাক্ষর ও তারিখ প্রদান করিবার সময়, তাহার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করিবে এবং পরবর্তীতে কেবলমাত্র আকস্মিক অসাবধানতা বা বাদ পড়ে যাইবার কোন করণিক বা গাণিতিক ভুল সংশোধন ব্যতীত অন্য কোন রকম সংশোধন করিতে পারিবে না।

(১১) সাক্ষীদের সমন প্রদান:

কার্যক্রমের যে কোন পক্ষ সাক্ষী মানিয়া কোন আবেদন দায়ের করিলে, যদি আদালত মোকদ্দমার সিদ্ধান্তের জন্য উক্ত সাক্ষীর উপস্থিতি অপ্রয়োজনীয় মনে না করেন, তবে অনুরূপ সাক্ষীকে হাজির হইবার জন্য সমন জারি করিতে পারিবে।

(১২) খরচ বহন বা অব্যাহতি:

শ্রম আদালত অথবা ট্রাইবুনালে মোকদ্দমা বা আপিল সম্পর্কে আনুষাঙ্গিক খরচ উক্ত আদালতের বিবেচনা মতে ধার্য্য করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত যদি মনে করে যে, দরিদ্রতার কারণে আবেদনকারী নির্ধারিত খরচ প্রদানে অক্ষম, তবে আদালত অনুরূপ সকল বা যে কোন খরচের মধ্যে ধারা ২২১ অনুযায়ী নির্ধারিত খরচ প্রদান হইতে তাহাকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(১৩) স্থানীয় তদন্তের জন্য প্রবেশের অধিকার:

কোন আদালতের নিকট দুর্ঘটনা সংক্রান্ত কোন তদন্ত বিবেচনাধীন থাকিলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক যে জায়গায় আহত হইয়াছে অথবা যে জায়গায় কর্মরত ছিলো সেই জায়গায় আদালত অথবা তাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা সরেজমিনে অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে যে কোন সময় প্রবেশ করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকের সম্মতি ব্যতীত কেবল উক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজ চলিবার সময় প্রবেশ করিতে পারিবে।

(১৪) স্থানীয় তদন্ত সংক্রান্ত পদ্ধতি:

(ক) দুর্ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হইলে আদালত অনুরূপ তদন্ত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করিবে, তবে ঘটনার জরুরি প্রকৃতি বিবেচনা করিয়া অনুরূপ সংবাদ অবহিত করা অসম্ভব মনে হইলে আদালত অথবা উাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা সংবাদ নাও অবহিত করিতে পারিবে;

(খ) অনুরূপ নোটিস মৌখিক বা লিখিতভাবে প্রদান করা যাইবে এবং মালিকের বিষয় হইলে ধারা ১৫৭(৫) অনুসারে যাহাদের নিকট দাবি পেশ করা যাইতে পারে তাহাদের উপর অথবা ব্যক্তি প্রতিনিধির উপর উক্ত নোটিস জারি করা যাইবে:

(গ) সরেজমিনে তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা তাহার প্রতিনিধি আদালতের সহিত যাইতে পারিবে:

(ঘ) সরেজমিনে তদন্তের সময় যে সমস্ত বিষয় প্রত্যক্ষ করিবে আদালত উহা একটি স্বারকপত্রে সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করিবে এবং পক্ষসমূহের কেউ চাইলে তাহাকে উহা প্রদর্শন করিবে; এবং

(ঙ) উক্ত স্বারকপত্র মামলার নথি হিসাবে গণ্য হইবে।

(১৫) সংক্ষেপে জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষমতা:

(ক) কোন মামলায় আনুষ্ঠানিক শুনানির সময় ব্যতীত সরেজমিনে অনুসন্ধানের সময় বা অন্য যে কোন সময় আদালত ঘটনা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করিতে সক্ষম বোধ হইলে যে কোন ব্যক্তিকে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে;

(খ) কোন ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট মামলার স্বাক্ষী হিসাবে তলব করা না হইলে এবং পক্ষসমূহ সেখানে উপস্থিত না থাকিলেও তাহাকে অনুরূপভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাইবে;

(গ) অনুচ্ছেদ (ক) অনুসারে কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করিবার সময় তাহার শপথ বাক্য পাঠ করিবার প্রয়োজন হইবে না:

(ঘ) অনুচ্ছেদ (ক) অনুসারে গৃহীত বিবৃতি যদি লিপিবদ্ধ করা হয়, তবে বিবৃতিদাতাগণ উহাতে স্বাক্ষর প্রদান করিবেন:

(ঙ) অনুচ্ছেদ (ক) অনুসারে যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হইয়াছে, তিনি যদি সাক্ষ্য প্রদান করিবার সময় তাহার উপরি-উক্ত লিপিবন্ধ জবানবন্দী বিরোধী কিছু বলেন, তবে আদালত এ বিষয়ে তাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে পারিবে; এবং

(চ) যে ক্ষেত্রে পক্ষগণের মাধ্যমে চুক্তি অনুসারে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করা হয়, সেই ক্ষেত্রে আদালত অনুচ্ছেদ (ক) অনুসারে লিপিবদ্ধ কোন বিবৃতি নথিভুক্ত করিতে পারিবে।

(১৬) সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমায় পদ্ধতি:

(ক) একই দুর্ঘটনা হইতে উদ্ভূত দুই বা ততোধিক মোকদ্দমা আদালতের নিকট বিচারাধীন থাকিলে, এবং অনুরূপ দুই বা ততোধিক মোকদ্দমায় একই সাধারণ বিচার্য বিষয় জড়িত থাকিলে, অনুরূপ বিচারাধীন মামলাসমূহ একীভূত করিয়া একটি মামলা হিসাবে পরিচালিত হইবে;

(খ) কোন ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ (ক) মোতাবেক ব্যবস্থা গৃহীত হইলে সাধারণ বিচার্য বিষয়ের উপর ভিত্তিশীল সাক্ষ্য একটি মোকদ্দমার নথিতে রেকর্ডভুক্ত করিবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে একীভূত মামলার পক্ষ হিসাবে বিবেচনায় লইতে হইবে।

(১৭) ফরমে দস্তখত করিবার নিয়ম:

ক্ষতিপুরণের রসিদ ব্যতীত অন্য যে কোন ফরম, যাহা এই বিধিমালা অনুযায়ী আদালত কর্তৃক স্বাক্ষরিত হওয়া সমীচীন, উহা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রাধিকারপ্রাপ্ত তাহার অধঃস্তন কোন কর্মকর্তাও স্বাক্ষর করিতে পারিবেন।

(১৮) প্রতিবেদনের জন্য স্থানান্তর:

(ক) কোন আদালত ধারা ১৬৭ এর বিধান অনুসারে কোন বিষয় অন্য আদালতের নিকট রিপোর্টের জন্য স্থানান্তর করিবার ক্ষেত্রে দলিলপত্রাদির সহিত, যে বিষয়ের উপর প্রতিবেদন প্রয়োজন সে বিষয়ে উত্তরের জন্য সাজানো প্রশ্নাকারে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা উক্ত আদালতের নিকট প্রেরণ করিবে;

(খ) যে আদালতের নিকট রিপোর্টের জন্য কোন মামলা স্থানান্তরিত হইয়াছে উহাকে কোন আইনগত প্রশ্নে কোন প্রতিবেদন প্রদান করিতে হইবে না।

(১৯) যে ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিযুক্ত করিতে হইবে:

কোন কার্যক্রমে পক্ষভুক্ত কোন ব্যক্তি ১৮ বৎসরের নিম্নবয়স্ক হইলে অথবা হাজির হইতে অক্ষম হইলে, আদালত কোন উপযুক্ত ব্যক্তিকে, যদি তিনি সম্মত হন, কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্য অনুরূপ পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করিবার জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে।

(২০) যে ক্ষেত্রে নূতন প্রতিনিধি নিয়োগ করিতে হইবে:

আদালত যদি মনে করে যে, দফা ১৯ মোতাবেক নিযুক্ত প্রতিনিধি কর্তৃক সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা হইতেছে না অথবা প্রতিনিধি হিসাবে নিযুক্ত ব্যক্তি যদি মৃত্যুবরণ করেন, অথবা প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতে অন্যভাবে অসমর্থ হন বা অপারগ হন, তবে আদালত উক্ত ব্যক্তির স্থলে অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রতিনিধি হিসাবে নিয়োগ করিবে।

Get 30% off your first purchase

X
error: Content is protected !!