উত্তরঃ মনে করুন আপনি আপনার কোম্পানীর শ্রমিকদেরকে হাজিরা বোনাস মাসিক ৮০০/১০০০/১২০০ টাকা দিতেন । যদিও আইনে কোথাও হাজিরা বোনাসের টাকার পরিমান সম্পর্কে কোন প্রকার নির্দিষ্ট করা নেই । তার মানে হচ্ছে আপনি শ্রম আইনের থেকে ও আপনার কোম্পানীর শ্রমিকদেরকে আপনার নিজস্ব কোম্পানী পলিসি অনুযায়ী অতিরক্তি সুবিধা হিসেবে শ্রমিকদেরকেকে হাজিরা বোনাস দিচ্ছেন। এখন কোন কারনে আপনার কোম্পানী কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিল যে শ্রমিকদেরকে হাজিরা বোনাস দিবেন না বা হাজিরা বোনাসের পরিমান কমানো হবে!!!
এখন এক্ষেত্রে উক্ত সুবিধা আইনগতভাবে বাদ দেওয়া যাবে কিনা বা কমানো যাবে কিনা?
সহজ উত্তর হল কোন শ্রমিকের প্রাপ্ত সুবিধার পরিমান কোন অংশেই কমানো যাবেনা ।
আপনি যদি বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারা- ২৭২ ও ধারা-৩৩৬ এবং নিম্মতম মজুরীর শর্তাবলী ১২ তে দেখেন তাহলে পাবেনঃ
ধারা- ২৭২ এ বলা আছে “এই আইন বা কোন বিধির অধীন কোন চাঁদা বা খরচ প্রদানে বাধ্য কেবলমাএ এই কারনে মালিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরী বা অন্য কোন সুযোগ সুবিধা কমাইতে পারিবেন না”
অন্যথায় ধারা-৩৩৬ এ বলা আছে “এই আইন বা কোন বিধি,প্রবিধান বা স্কীমের কোন কিছুই এই আইন প্রবর্তন হওয়ার সময় উহার দ্বারা রহিত কোন আইনের অধীন, অথবা কোন রোয়েদাদ,চুক্তি, নিষ্পত্তি বা প্রচলিত প্রথার অধীন কোন শ্রমিকের ভোগকৃত অধিকার বা সুযোগ সুবিধা,তিনি যতদিন, উক্ত প্রবর্তনের তারিখে যে মালিকের অধীন কর্মরত ছিলেন, সে মালিকের অধীন চাকুরীরত থাকিবেন ততদিন পর্যন্ত ব্যাহত বা ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না, যদি তাহার উক্ত অধিকার এবং সুযোগ সুবিধা এই আইন,বিধি,প্রবিধান বা স্কীমের অধীন প্রদত্ত অধিকার ও সুযোগ সুবিধা হইতে অধিকতর অনুকূল হয়।”
এছাড়াও নিম্মতম মজুরীর শর্তাবলী ১২ তে উল্লেখ্য আছে যে ,
তফসিলে উল্লিখিত নিম্নতম মজুরী ও বিভিন্ন ভাতাদি ছাড়াও যদি উক্ত শিল্প সেক্টরে নিযুক্ত কোনো শ্রমিক বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী কোনো অধিকার, সুযোগ সুবিধা ও ভাতাদি পাইয়া থাকেন, তাহা হইলে তাহার উক্ত অধিকার, সুযোগ সুবিধা ও ভাতাদি ধারাবাহিকভাবে বলবৎ ও অব্যাহত থাকিবে;
উপরোক্ত ধারা দুটি ও নিম্মতম মজুরীর শর্তাবলী থেকে স্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয় যে কোন কোম্পানী কোন কর্মীর প্রাপ্ত সুবিধা বা প্রদানকৃত অধিক সুবিধা কোনভাবেই কমানো যাবে না। যদি কমানো হয় তবে তা আইন বিরোধী কাজ বলে বিবেচিত হবে এবং এই ক্ষেত্রে একজন শ্রমিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবার কারনে তিনি আদালতে অভিযোগ করতে পারবেন।
ইপিজেড আইনে বিধি ২৮৮(২) এ বলা হয়েছে যে, ভবিষৎ তহবিল কার্যকর হইবার তারিখে হইতে মালিক তহবিলের সদস্যগনের কোন আর্থিক বা অনার্থিক সুবিধা কমাইতে পারিবেনা।