উত্তরঃ
বাংলাদেশ শ্রম আইন এর ধারা ৫৮ ও শ্রম বিধিমালা ৫০ অনুযায়ী
* প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে, উহাতে কর্মরত সকল শ্রমিকের শ্রমিকের সহজগম্য এবং সুবিধাজনক স্থানে পান করার জন্য উহার কোন সুবিধাজনক স্থানে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
* প্রত্যেক পানি সরবরাহের স্থানকে বাংলায় “পান করার পানি” কথাগুলি স্পষ্টভাবে লিখিয়া দিয়া চিহ্নিত করিতে হইবে।
* সরবরাহকৃত পানি;
(ক) জীবাণুমুক্ত উপযুক্ত পাত্রে রাখিতে হইবে;
(খ) প্রতিদিন কমপক্ষে একবার বদলাইতে হইবে;
(গ) সকল প্রকার সংক্রমণ হইতে মুক্ত রাখিবার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে আধুনিক পানি পরিশোধন প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত পানি পাত্রসহ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হইলে প্রতিদিন বদলানোর প্রয়োজন হইবে না।
* যে স্থানে শ্রমিকদের পান করিবার পানি সরবরাহ করা হয় সেই স্থানে আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং নালা সংযুক্ত অবস্থায় রাখিতে হইবে।
* যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ দুইশত পঞ্চাশ জন বা ততোধিক শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন, সে সকল প্রতিষ্ঠানে গ্রীষ্মকালে পান করার পানি ঠান্ডা করিয়া সরবরাহ করার ব্যবস্থা করিতে হইবে।
প্রতি বৎসর ১ এপ্রিল হইতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শ্রমিকদের ক্যান্টিন, খাবার ঘর এবং বিশ্রাম ঘরে পান করিবার জন্য যে পানি সরবরাহ করা হয় উহা পানি ঠাণ্ডাকরণ যন্ত্র (Water Cooler) অথবা অন্য কোন কার্যকর পন্থায় ঠাণ্ডা করিয়া সরবরাহ করিতে হইবে;
তবে শর্ত থাকে যে, যে সকল প্রতিষ্ঠানে সরবরাহকৃত খাবার পানি খাবারযোগ্য স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকে সেই সকল প্রতিষ্ঠানে পানি ঠান্ডাকরণ যন্ত্রের মাধ্যমে ঠান্ডা করিবার প্রয়োজন হইবে না।”;
* মাত্রাতিরিক্ত তাপ উদ্রেককারী যন্ত্রের সন্নিকটে কাজ করার কারণে শ্রমিকের শরীরে পানি শূন্যতার সৃষ্টি হইলে, ঐ সকল শ্রমিকের জন্য ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপির ব্যবস্থা করিতে হইবে।
* সরবরাহকৃত ভূগর্ভস্থ পানি বা অন্য কোনভাবে সরবরাহকৃত পানি বা টিউবওয়েলের পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উহা আর্সেনিক, জীবানুমুক্ত ও খাবার উপযুক্ত কি না উহা অন্তত: বৎসরে একবার বা পরিদর্শক কর্তৃক নির্দেশিত হইলে সরকারের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগ বা সরকারের অন্যকোন প্রতিষ্ঠান বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যে কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে মালিককে লিখিত প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করিতে হইবে।
* যে প্রতিষ্ঠানে সাধারণত ২৫০ জনের অধিক শ্রমিক কাজ করিয়া থাকেন উহার প্রতিটিতে (৭) প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত কোন যন্ত্রের কারণে যদি এমন তাপ সৃষ্টি হয় যাহা সহনীয় মাত্রার অতিরিক্ত তাপ উদ্রেক করে তাহা হইলে উক্ত যন্ত্রের সন্নিকটে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ধারা ৫৮(৪) অনুযায়ী পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন অথবা গুড় বা চিনির শরবত সরবরাহ করিতে হইবে এবং এই গুড় বা চিনি মিশ্রিত শরবতের পরিমাণ প্রতি শ্রমিকের জন্য দৈনিক ন্যূনতম দুই লিটার হইতে হইবে।
ইপিজেড আইন এর ধারা ৩৫ এর উপধারা ২(ঝ) ও ইপিজেড বিধিমালা ৪৯ অনুযায়ী,
শ্রম আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সকল শর্তসমূহ ইপিজেড আইন ও বিধি অনুযায়ী একই তবে শুধুমাত্র বৎসরে কতবার পানি পরীক্ষা করিতে হইবে ইহাতে পার্থক্য বিদ্যমান ।
যেখানে শ্রম বিধিমালা ৫০(৫) অনুযায়ী ,
সরবরাহকৃত পানি অন্তত: বৎসরে একবার বা পরিদর্শক কর্তৃক নির্দেশিত হইলে সরকারের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগ বা সরকারের অন্যকোন প্রতিষ্ঠান বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যে কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে মালিককে লিখিত প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করিতে হইবে।
কিন্তু ইপিজেড বিধিমালা ৪৯(৫) অনুযায়ী, অন্তত প্রতি বৎসরে ৪ (চার) বার মালিককে পরীক্ষণ প্রতিবেদন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করিতে হইবে।.
.
.
.
প্রশ্ন: তরল বর্জ বছরে কতবার পরীক্ষা করিতে হইবে?