Khandakar T Ahmed sir কর্তৃক এ সংক্রান্ত মাতৃত্ব এর সুন্দর বিশ্লেষন

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দগুলোর যদি একটা তালিকা করা হয় তবে আমার মনে হয় “মা” শব্দটা তালিকার সবার উপরে থাকবে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে,আর অবশ্যই সেটার কারন ব্যাখ্যা করার কোন মানে হয় না,যে “মা” শব্দটা পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দ কেন।
ঠিক একইভাবে একজন “মাকে” যদি আপনি বলেন যে আপনার জীবনের সৃষ্ট সময় কোনটা সেই মা আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে দিবে আমি যেদিন মাতৃত্ববরন করেছিলাম।
কিন্ত একটা মায়ের জন্য  মাতৃত্ববরন করা খুব কষ্টের কারন হয়ে উঠে যখন সেই মা হয় কর্মজীবি মা। যদিও বাংলাদেশ শ্রম আইনে যথেষ্ট পরিমানে চেষ্টা করা হয়েছে, একজন নারীকে প্রসূতিকালীন সময়ে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য কিন্ত এটা একজন সরকারি কর্মজীবি নারী সুবিধার তুলনায় অনেক কম মনে হয়।যেখানে একজন সরকারি নারী কর্মচারী ৬ মাস ছুটি পান সেখানে একজন শ্রমিক ১১২ দিন ছুটি পান,একটি দেশে দুই নীতির হওয়া উচিত না কারন আমি বিশ্বের অনেক দেশের শ্রম আইন ও সরকারি কর্মচারীদের চাকুরী বিধিমালাতে এমন কোন বিস্তার ফারাক পাইনি।


এবার আশা যাক মূল আলোচনাতে,আমি আলোচনা শুরু করছি একজন সার্জারি ডাক্তারের মত করে ভয় দেখিয়ে। আপনি যদি বাংলাদেশ শ্রম আইনে চতুর্থ অধ্যায় লংঘন করেন তবে আপনার শাস্তি কি হবে।আপনাকে ২৫০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারা ২৮৬ অনুযায়ী
এবার কথা হল মাতৃত্বকালীন ছুটি 


★ কোন শ্রমিক পাবে?★ছুটি কত দিন পাবে?★কোন নারী পাবেন না?★স্থায়ী শ্রমিক হতে হবে কি না?এবং ★ প্রসূতি কল্যান সুবিধা পেতে হলে একজন নারীকে প্রতিষ্ঠানে কতদিন কাজ করতে হবে?


★ মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত যেকোন নারী শ্রমিক পাবে।অনেকে বলেন অস্থায়ী নারী শ্রমিকরা পাবে না শুধু স্থায়ীরা পাবে কিন্ত ধারনাটা সঠিক না কারন ধারা ৪৬(১) বলা আছে যেঃ “প্রত্যেক মহিলা শ্রমিক তাহার মালিকের নিকট হইতে তাহার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের অব্যবহিত পূর্ববতী আট সপ্তাহ এবং সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী আট সপ্তাহের জন্য প্রসূতি কল্যান সুবিধা পাইবার অধিকারী হইবেন”।
★কোন নারী পাবেন না?
আপনি একজন নারী,আপনি প্রতিষ্ঠানে ৬ মাস কাজ করেছেন কিন্ত তারপরও আপনি প্রসূতিকালীন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন যদি আপনার দুটি সন্তান জীবিত থাকে।
তার মানে কি আপনার তৃতীয় সন্তান জন্মের সময় আপনি কোন ছুটি পাবেন না।আপনি যদি মহিলা হন তবে হতাশ হবেন না কারন আপনার জন্য ছুটি ব্যবস্থা আছে কিন্ত
*সেটা কত দিন?*আর কি ভাবেই বা সেটা দেয়া হবে?
প্রথম কথা হল কতদিন উত্তরটা হল ১১২ দিন কিন্ত কেন ধারা ৪৫(২) ও (৩) পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন তাই আর বর্ননা করলাম না।


ধারা ৪৬(২) যে নারীর দুই বা ততোধিক সন্তান জীবিত থাকে সে প্রসূতি কল্যান সুবিধা পাবে না তবে সে কোন ছুটি পাইবার অধিকারী হইলে তাহা পাইবেন।
“কোন ছুটি পাইবার অধিকারী” এর ব্যাখ্যা বাংলাদেশ শ্রম আইনের বিধিমালাতে বলা হয়েছে যে কোন ছুটি পাইবার অধিকারী বুঝাইতে শ্রমিক কর্তৃক অর্জিত বার্ষিক ছুটি এবং পীড়া ছুটি বুঝাইবে। এখানে আরও বলা হয়েছে যে পীড়া ছুটি এবং অর্জিত ছুটি সমম্নয় করার পর যদি আরও ছুটি প্রয়োজন হয় সে ক্ষেএে মালিক শ্রমিকে বিনা মজুরীতে ছুটি মঞ্জুর করিবেন।


★ যদিও ইতিমধ্যে এটা উল্লেখ করা হয়েছে যে সন্তান প্রসবের ঠিক পূর্বে ৮ সপ্তাহ এবং ঠিক পরে ৮ সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটি পাইবেন এবং হিসাবটা হলঃ
(৮*৭)=৫৬ দিন।
(৫৬*২)=১১২ দিন।
এখন প্রসূতি কল্যান সুবিধা অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ধারা নিয়ে আমি আলোচনা করছি এবং আপনাদের একটু বিশেষ মনযোগ আশা করছি।


★ ★ প্রসূতি কল্যান সুবিধা পেতে হলে একজন নারীকে প্রতিষ্ঠানে কতদিন কাজ করতে হবে?
উত্তরটা খুব সোজা মাএ ৬ মাস কিন্ত আসল সমস্যাটা এখানে না,আসেন একটু গল্প করে সমস্যাটা বের করি।
সুমনা মারাত্মক সুন্দরী এক মহিলা,আপনারা অনেকে ভাবছেন সুন্দরী আবার মারাত্মক হয় কিভাবে,হয় রে পাগলা হয়।এই সুমনাকে দেখার জন্য এলাকার কত ছেলের যে গায়ের রং কালো হয়ে গেল রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে থাকতে তার খবরকে রাখে।যাই হোক সুমনা বিয়ে করল পরে একটা চাকুরীও নিল একটা মুঠো ফোন কোম্পানিতে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের ১তারিখে,সুমনা তার মালিকে মে মাসের ৪ তারিখে জানাল যে তার EDD (Expected Date of Delivery)সম্ভাব্য সন্তান প্রসাবের সময় জুলাইয়ের ১ তারিখে।এখন সে মাতৃত্বকালীন ছুটি চায় কিন্ত মালিক তাকে বলেন যে আপনার চাকুরীর বয়স মাএ ৪ মাস ৪ দিন,অতএব আপনি কোন ছুটি পাবেন না।


★ ৪ মাস ৪ দিন কাজ করে সুমনা কি আসলেই কোন মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবে না?
৪৬ (১)ধারার একটা লাইন তুলে দিয়ে তরজমা করলে চান্দিডা ঠান্ডা হবে।
“তবে শর্ত থাকে যে,কোন মাহিলা উক্তরুপ সুবিধা পাইবেন  না যদি না তাহার মালিকের অধীন (তাহার সন্তান প্রসবের অব্যবহিত (ঠিক) পূর্বে অন্যুন ছয় মাস কাজ করিয়া থাকেন)
Bracket এর মধ্যে পড়েন,তার মানে বলা হয়েছে সন্তান প্রসাবের ঠিক পূর্বে ৬ মাস কাজ করতে হবে।
এবার দেখি হিসাবটা কিভাবে হয়ঃজানুয়ারির ১ তারিখ থেকে মে মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত ৪ মাস ৪ দিন প্লাস ৫৬ দিন মাতৃত্বকালীন ছুটি সব মিলিয়ে ৬ মাস হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Get 30% off your first purchase

X
error: Content is protected !!