উত্তরঃ
বাংলাদেশ শ্রম আইন ৬২ ও ও শ্রম আইন ৭২ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধি ৫৪ অনুযায়ী
৬২। অগ্নিকান্ড সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন
(১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিতভাবে অগ্নিকান্ডের সময় প্রত্যেক তলার সাথে সংযোগ রক্ষাকারী অন্ততঃ একটি বিকল্প সিঁড়িসহ বহির্গমনের উপায় এবং প্রত্যেক তলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
(২) যদি কোন পরিদর্শকের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিধি অনুযায়ী বহির্গমনের ব্যবস্থা করা হয় নাই অথবা অগ্নি নির্বাপন দপ্তরের লাইসেন্স মোতাবেক প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখা হয় নাই তাহা হইলে তিনি মালিকের উপর লিখিত আদেশ জারী করিয়া, উহাতে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, তাহার মতে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন- তাহা তাহাকে অবহিত করিবেন।
(৩) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে কোন কক্ষ হইতে বহির্গমনের পথ তালাবদ্ধ বা আটকাইয়া রাখা যাইবে না, যাহাতে কোন ব্যক্তি কক্ষের ভিতরে কর্মরত থাকিলে উহা তৎক্ষণাৎ ভিতর হইতে সহজে খোলা যায়, এবং এই প্রকার সকল দরজা, যদি না এইগুলি স্লাইডিং টাইপের হয়, এমনভাবে তৈরী করিতে হইবে যেন উহা বাহিরের দিকে খোলা যায়, অথবা যদি কোন দরজা দুইটি কক্ষের মাঝখানে হয়, তাহা হইলে উহা ভবনের নিকটতম বহির্গমন পথের কাছাকাছি দিকে খোলা যায়, এবং এই প্রকার কোন দরজা কক্ষে কাজ চলাকালীন সময়ে তালাবদ্ধ বা বাধাগ্রস্থ অবস্থায় রাখা যাইবে না।
(৩ক) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে কর্মকালীন অবস্থায় কোন কক্ষ হইতে বহির্গমনের পথ তালাবদ্ধ বা আটকাইয়া রাখা যাইবে না এবং বহির্গমনের পথ বাধাগ্রস্থ কিংবা পথে কোন প্রতিবন্ধকতাও তৈরী করা যাইবে না।
(৩খ) কোন কর্মকক্ষের ভিতর হইতে তাৎক্ষণিকভাবে এবং উহা বাহিরের দিকে খোলা যায় এমনভাবে সকল দরজা তৈরী করিতে হইবে।
(৩গ) যদি কোন দরজা দুইটি কক্ষের মাঝখানে হয়, তাহা হইলে উহা ভবনের নিকটতম বহির্গমনের পথের কাছাকাছি খোলা যায় এইরূপভাবে তৈরী করিতে হইবে এবং এইরূপ সকল দরজা কক্ষে কাজ চলাকালীন তালাবদ্ধ বা বাধাগ্রস্থ অবস্থায় রাখা যাইবে না।
(৪) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে সাধারণ বহির্গমণের জন্য ব্যবহৃত পথ ব্যতীত অগ্নিকান্ড কালে বহির্গমনের জন্য ব্যবহার করা যাইবে- এরূপ প্রত্যেক জানালা, দরজা বা অন্য কোন বহির্গমন পথ স্পষ্টভাবে লাল রং দ্বারা বাংলা অক্ষরে অথবা অন্য কোন সহজবোধ্য প্রকারে চিহ্নিত করিতে হইবে।
(৫) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে, উহাতে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিককে অগ্নিকান্ডের বা বিপদের সময় তৎসম্পর্কে হুশিয়ার করার জন্য, স্পষ্টভাবে শ্রবণযোগ্য হুশিয়ারী সংকেতের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে।
(৬) প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কক্ষে কর্মরত শ্রমিকগণের অগ্নিকান্ডের সময় বিভিন্ন বহির্গমন পথে পৌঁছার সহায়ক একটি অবাধ পথের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।
(৭) যে প্রতিষ্ঠানে উহার নীচ তলার উপরে কোন জায়গায় সাধারণভাবে দশজন বা ততোধিক শ্রমিক কর্মরত থাকেন, অথবা বিস্ফোরক বা অতিদাহ্য পদার্থ ব্যবহৃত হয়, অথবা গুদামজাত করা হয়, সে প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ডকালে বহির্গমনের উপায় সম্পর্কে সকল শ্রমিকেরা যাহাতে সুপরিচিত থাকেন এবং উক্ত সময়ে তাহাদের কি কি করণীয় হইবে, তৎসম্পর্কে তাহারা যাহাতে পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ লাভ করিতে পারেন সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
(৮) পঞ্চাশ বা ততধিক শ্রমিক/কর্মচারী সম্বলিত কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে প্রতি ছয় মাসে অন্ততঃ একবার অগ্নিনির্বাপন মহড়ার আয়োজন করিতে হইবে, এবং এই বিষয়ে মালিক কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় একটি রেকর্ড বুক সংরক্ষণ করিতে হইবে।
বাংলাদেশ শ্রম বিধি ৫৪ অনুযায়ী,
(১) প্রতিষ্ঠানের ভবনের প্রতিটি কক্ষ যেখানে ২০ জনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি কাজ করেন সেই ক্ষেত্রে অন্যূন দুইটি করিয়া বর্হিঃগমন পথ থাকিতে হইবে এবং এইগুলো এমনভাবে অবস্থিত থাকিবে যাহাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তাহার কাজের স্থান হইতে বর্হিঃগমন পথ পর্যন্ত বাঁধাহীনভাবে এবং স্বচ্ছন্দে পৌছাইতে পারে।
(২) উক্তরূপ বর্হিগমন পথ কোন শ্রমিকের কাজের স্থান হইতে পঞ্চাশ মিটারের অধিক দূরত্বে হইবে না এবং উহা প্রস্থে ১.১৫ মিটার এবং উচ্চতায় ২.০০ মিটারের কম হইতে পারিবে না।
(৩) যেক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের ভবনে বা ভবনের কোন অংশে নিচতলার উপরে কোন সময় ২০ বা ততোধিক শ্রমিক কাজ করিয়া থাকেন অথবা যেখানে দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় বা জমা রাখা হয় অথবা প্রতিষ্ঠানের ভবন বা উহার অংশ ভূ-সমতলের নিচে অবস্থিত, সেই ক্ষেত্রে জরুরি মূহুর্তে বাহির হইবার উপায়ের মধ্যে ভবনের ভিতরে বা বাহিরে স্থায়ীভাবে নির্মিত কমপক্ষে দুইটি মজবুত এবং পৃথক সিঁড়ির ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকিবে এবং এইগুলি অগ্নি প্রতিরোধক পদার্থ দ্বারা নির্মাণ এবং সরাসরি ও বাঁধাহীন যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্বলিত হইতে হইবে।
(8) আগুন লাগিলে বাহির হইয়া যাইবার জন্য ব্যবহৃতব্য প্রত্যেকটি সিঁড়ি মজবুত হ্যান্ড রেইলযুক্ত থাকিবে এবং উক্ত সিঁড়ি উহার রেইল তাপ অপরিবাহী ও অগ্নি প্রতিরোধক পদার্থ দ্বারা নির্মাণ করিতে হইবে এবং সিঁড়িটি অমসৃণ হইতে হইবে।
(৫) উক্তরূপ সিঁড়ি এই বিধিমালা বলবৎ হইবার পরে নির্মিত হইলে উহার উভয় পার্শ্বে হ্যান্ড রেইল যুক্ত থাকিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালা বলবৎ হইবার পূর্বে নির্মিত সিঁড়িসমূহ যদি উভয় পার্শ্বে রেইল যুক্ত না হইয়া থাকে তাহা হইলে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে উহা উভয় পার্শ্বে রেইল যুক্ত করিতে হইবে
আরও শর্ত থাকে যে, যদি উক্ত সিঁড়ি রেলিং স্থাপনের জন্য প্রশস্ততা ১.১৫ মিটারের কম হইলে এই শর্ত প্রযোজ্য হইবে না।
(৬) কোন সিঁড়ি সমতল হইতে ৪৫° কোণের অধিক কৌণিক দূরত্বে নির্মাণ করা যাইবে না।
(৭) ছয় তলা পর্যন্ত উচ্চতা বিশিষ্ট ভবনের কোন সিঁড়ি ১.১৫ মিটারের কম প্রশস্ত হইবে না এবং ষষ্ঠ তলার অধিক উচ্চতাসম্পন্ন ভবনের সিঁড়ি ২.০০ মিটারের কম প্রশস্ত হইবে না এবং বহুতল বিশিষ্ট কারখানা ভবনের ক্ষেত্রে স্প্রিঙ্কলার ব্যবস্থাবিহীন বিল্ডিং এবং স্প্রিঙ্কলার ব্যবস্থা সম্বলিত বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালা জারির পূর্বে নির্মিত সকল বহুতল বিশিষ্ট কারখানা ভবনের ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে সিঁড়ির প্রশস্ততা কোনক্রমেই ১.১৫ মিটারের কম হইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, পুরাতন অবকাঠামোজনিত কারণে যেখানে সিঁড়ির প্রশস্ততা বাড়ানোর সুযোগ নেই সেই ক্ষেত্রে সিড়ির প্রশস্ততা ০.৮২ মিটারের কম হইবে না।
(৮) দুইটি বহির্গমন পথ বা সিঁড়ি ৫০ মিটারের অধিক দূরত্বে এবং পরস্পরের সন্নিকটে হইবে না এবং কমপক্ষে অর্ধেক সংখ্যক সিঁড়ির শেষ প্রান্ত ভবনের বহির্মুখী হইতে হইবে।
(৯) সিঁড়িতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও আলোর ব্যবস্থা থাকিতে হইবে যেন সিড়িটি ধোঁয়াচ্ছন্ন বা অন্ধকারাচ্ছন্ন না হইতে পারে এবং চিলেকোঠায় অবস্থিত দরজা কাজ চলাকালীন বন্ধ বা তালাবদ্ধ রাখা যাইবে না।
(১০) প্রতিটি ফ্লোরের ন্যূনতম একটি গ্রীলবিহীন জানালা থাকিবে যা কজাসংযুক্ত হইতে হইবে এবং যাহাতে জরুরি প্রয়োজনে খুলিয়া লেডার বা দড়ির মই এর সাহায্যে নীচে নামিয়া আসা যায় এবং নীচ তলায় শক্ত দড়ির জাল সংরক্ষণ করিতে হইবে যাহাতে অগ্নি দুর্ঘটনার সময় জরুরি প্রয়োজনে দড়ি বহিয়া উক্ত জালে অবতরণ করা যায়।
(১১) ধারা ৬২ অনুযায়ী পরিদর্শক কর্তৃক প্রদত্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাহার কর্তৃক নির্দেশিত নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে কোন মালিক বা কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হইলে উহা চলমান অপরাধ অর্থাৎ প্রতিদিন কৃত অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
ইপিজেড বিধি ৩৯ ও ইপিজেড বিধি ৭৯ অনুযায়ী
৩৯। ভবনের অভ্যন্তরীণ মেঝে, সিঁড়ি এবং যাতায়াত পথ।
আইনের ধারা ৩৫(২) (ক) এর বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে নিম্নরূপ ব্যবস্থা থাকিতে হইবে, যথা:-
(ক) সকল মেঝে, সিঁড়ি, চলাচল পথ মজবুতভাবে নির্মাণ ও যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হইলে উহাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করিবার জন্য মজবুত রেলিং এর ব্যবস্থা করিতে হইবে এবং কর্মকালীন নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য পথ ও সিঁড়ি উন্মুক্ত রাখিতে হইবে;
(খ) যেই স্থানে কোনো সময় কোনো ব্যক্তিকে কাজ করিতে হয় সেই স্থানে যাতায়াতের জন্য যতদুর সম্ভব নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করিতে হইবে;
(গ) কর্মস্থলের চলাচলের পথ ও সিঁড়ি পরিচ্ছন্ন, প্রশস্ত ও প্রতিবন্ধকতাহীন হইতে হইবে;
(ঘ) মালিক কারখানা ও শ্রমিকের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মস্থলের চলাচলের পথ, সিঁড়ি, গেইট, গুদাম ও সাধারণ ব্যবহারের স্থান ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনিতে পারিবে;
(ঙ) যাতায়াত ও বহির্গমনের পথ অবশ্যই অন্ধকারে বা ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এইরূপ রং দ্বারা তীর চিহ্নসহ চিহ্নিত থাকিতে হইবে; এবং
(চ) প্রতিটি সিঁড়ি, বহির্গমনের পথ ও জরুরি বহির্গমনের পথে অবশ্যই ব্যাটারি চালিত ফগ লাইট বা জরুরি বাতির ব্যবস্থা থাকিতে হইবে যাহা বিদ্যুৎ না থাকিলেও জ্বলিবে।
ইপিজেড বিধি ৭৯ অনুযায়ী
প্রতিষ্ঠানের কোনো স্থানে যন্ত্রপাতি স্থাপনের ক্ষেত্রে স্থাপিত যন্ত্র বা যন্ত্রসারির মাঝে কমপক্ষে ১ (এক) মিটার প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা থাকিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বর্তমানে চলমান প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা না থাকিলে চলাচলের রাস্তা অন্যূন ০.৭৫ মিটার রাখা যাইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, যে সকল যন্ত্রপাতি দেয়াল ঘেষিয়া স্থাপন করিতে হয় এবং দেয়ালের পার্শ্বে কোনো শ্রমিককে কাজ করিতে হয় না সেক্ষেত্রে দেয়াল হইতে যন্ত্রপাতির দূরত্ব প্রযোজ্য হইবে না।