উত্তরঃ বাংলাদেশ শ্রম আইন ৫৯ এবং ইপিজেড আইনের ধারা ৩৫(২) (জ) , বিধিমালা ৪৮ অনুযায়ী ,
শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ এর জন্য বাধ্যকতা
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে-
(ক) উহাতে কর্মরত শ্রমিকগণ কাজের সময়ে যাহাতে সহজে ব্যবহার করিতে পারেন এরূপ সুবিধাজনক স্থানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রকারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাস্থ্য সম্মত শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের ব্যবস্থা করিতে হইবে;
(খ) উক্ত শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ পুরুষ এবং নারী শ্রমিকগণের জন্য স্বতন্ত্রভাবে ব্যবস্থা করিতে হইবে;
(গ) শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষগুলিতে যথেষ্ট আলো, বাতাস এবং সার্বক্ষণিক পানির ব্যবস্থা রাখিতে হইবে; এবং
(ঘ) উক্ত শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ মালিকের নিজ খরচে জীবানুনাশক ও পরিষ্কারক ব্যবহারের মাধ্যমে সব সময় পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখিতে হইবে।
শ্রম বিধিমালা ৫১ ও শ্রম বিধির তফসীল -২ এবং বিধিমালা ৪৮ ও তফসীল -০১ অনুযায়ী ,
(১) শৌচাগারের সংখ্যা:
(ক) মহিলা শ্রমিকের ক্ষেত্রে, প্রথম ১০০ জন পর্যন্ত প্রতি ২৫ জনের জন্য একটি করিয়া এবং পরবর্তী প্রতি ৫০জনের জন্য একটি করিয়া:
(খ) পুরুষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে, প্রথম ১০০ জন পর্যন্ত প্রতি ৪০ জনের জন্য একটি করিয়া এবং পরবর্তী প্রতি ৬০ জনের জন্য একটি করিয়া।
ব্যাখ্যা।- এই দফা মোতাবেক প্রয়োজনীয় শৌচাগারের সংখ্যা হিসাব করিবার ক্ষেত্রে ২৫. ৪০. ৫০ এবং ৬০ জনের কমসংখ্যক শ্রমিককে যথাক্রমে ২৫, ৪০, ৫০ এবং ৬০ বলে ধরা হইবে।
(২) প্রক্ষালন কক্ষ:
(ক) পুরুষ শ্রমিকদের ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম ১০০ জনের জন্য একটি করিয়া প্রক্ষালন কক্ষের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
(খ) মহাপরিদর্শকের নিকট হইতে কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের লে-আউট প্লান অনুমোদনের সময়ে উহাতে শৌচাগার বা প্রক্ষালনের ব্যবস্থা স্পষ্ট আকারে চিহ্নিত থাকিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ প্রতিষ্ঠান বা কারখানা ভবনের বাইরে হয় তাহা হইলে উহার নক্সা আলাদাভাবে অনুমোদন করাইতে হইবে।
(৩) শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের অবস্থান:
শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের ব্যাপারে নিম্নবর্ণিত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে, যথা:-
(ক) প্রতিষ্ঠান বা কারখানার মধ্যে শ্রমিকরা সহজে আসা-যাওয়া করিতে পারে এবং দুর্গন্ধ যাহাতে কোন কাজের ঘরে না আসে, এইরূপ জায়গায় শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ নির্মাণ করিতে হইবে;
(খ) শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষে পর্যাপ্ত আলো এবং প্রয়োজনীয় বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে;
(গ) মহিলা ও পুরুষ উভয় শ্রেণির শ্রমিক যেখানে নিয়োজিত রহিয়াছে সেইখানে উভয়ের জন্য আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে এবং প্রত্যেকটির প্রবেশ দ্বারে চিহ্ন দিয়া বা বাংলা ভাষায় সাইন বোর্ড টাঙ্গাইয়া ইহা পুরুষদের না মহিলাদের শৌচাগার উহা নির্দেশ করিতে হইবে;
(ঘ) মহিলাদের জন্য শৌচাগার এমন হইতে হইবে পুরুষ শ্রমিকরা যেইখানে কাজ করিয়া থাকেন বা চলাচল করিয়া থাকেন সেইখান হইতে যাহাতে দেখা না যায় এবং যদি পুরুষ ও মহিলাদের শৌচাগারগুলো সংলগ্ন অবস্থানে থাকে তবে শৌচাগারে যাইবার রাস্তা আলাদা আলাদা হইতে হইবে; এবং
(ঙ) মহিলাদের জন্য নির্ধারিত প্রত্যেক শৌচাগারের অভ্যন্তরে একটি করিয়া ঢাকনাওয়ালা আবর্জনা বাক্স রাখিতে হইবে এবং উহা প্রতিদিন পরিষ্কার করিতে হইবে।
(8) শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষসমূহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা:
(ক) শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ প্রতিদিন পানি ও জীবানুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করিতে হইবে;
(খ) প্রত্যেক শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের দেওয়াল, ছাদের অভ্যন্তর ভাগ ও দেওয়ালগুলি অন্তত:পক্ষে প্রতি বৎসর একবার করিয়া চুনকাম ও রং করিতে হইবে এবং উক্ত চুনকাম করিবার তারিখ নির্ধারিত ফরম (শ্রম আইন এ ফরম-২০ / ইপিজেড আইন এর ফরম-২৫) অনুযায়ী রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ রাখিতে হইবে;
(গ) শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের কোন অংশ উজ্জ্বল টালি বসাইয়া বা অন্যভাবে মসৃণ করা হইয়া থাকিলে সেই ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রতিদিন একবার উপযুক্ত ময়লানাশক ও জীবাণু বা কীটনাশক দ্রব্য সহযোগে পরিষ্কার করিতে হইবে।