ছুটি কি
এক কথায় যদি বলা যায় ছুটির অর্থ হচ্ছে কর্মস্থলে অনুমোদিতভাবে উপস্থিত না থাকা বা কর্মে বিরত থাকা।
ছুটির প্রকারভেদ
১. সাপ্তাহিক ছুটি – শ্রম আইন ধারা ১০৩ ও ইপিজেড অধ্যাদেশের ধারা-৪১ অনুযায়ী , সপ্তাহে ১ দিন ছুটি প্রাপ্য।
২. নৈমিত্তিক ছুটি – শ্রম আইন এর ধারা ১১৫ অনুযায়ী ও ইপিজেড অধ্যাদেশের ধারা-৫০ অনুযায়ী, একজন শ্রমিক প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে ১০ দিন পূর্ণ মজুরিতে ছুটি ভোগ করিবেন।
৩.পীড়া বা অসুস্থ্য জনিত ছুটি – শ্রম আইন এর ধারা ১১৬ ও ইপিজেড অধ্যাদেশের ধারা-৫১ অনুযায়ী, প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে পূর্ণ মজুরিতে ১৪ দিন।
৪.বাৎসরিক বা অর্জিত ছুটি – শ্রম আইন এর ধারা ১১৭ ও ইপিজেড অধ্যাদেশের ধারা-৫২ অনুযায়ী, প্রতি ১৮ দিনে ১ দিন। তবে চাকুরীর মেয়াদ অবিচ্ছন্নভাবে ১ বছর পূর্ণ হতে হবে।ছুটি ভোগ না করলে জমা থাকবে এবং বছরে একবার অর্ধেক নগদায়ণ করতে পারবে।
কিন্তু ইপিজেড আইন ধারা-৫২(২) অনুযায়ী কতৃপক্ষ নগদায়নের পদ্ধতি নির্ধারন করিবেন।
৫.উৎসব ছুটি – ধারা ১১৮(১) অনুযায়ী , প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে ১৩ দিন ছুটি ভোগ করিবেন কিন্তু ইপিজেড অধ্যাদেশের ধারা-৫৩ অনুযায়ী প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে ১১ দিন ছুটি ভোগ করিবেন। এখানে উল্লেখ্য যে শ্রম আইন সংশোধণী ২০২৬ এর পূর্বে শ্রম আইনে উৎসব ছুটি ১১ দিন ছিল।
তবে শ্রম আইনের ধারা ১১৮(৩) অনুযায়ী উৎসব ছুটির দিন কাজ করাইলে তাহাকে ০১ দিনের বিকল্প ছুটি ও ০২ দিনের ক্ষতিপূরনমূলক মজুরি দিতে হবে। কিন্তু ইপিজেড অধ্যাদেশের ধারা-৫৩(৩) অনুযায়ী ০২ দিনের মজুরীসহ ক্ষতিপূরনমূলক ছুটি মন্জুর করিতে হইবে।
৬. মাতৃত্বকালীন ছুটি – ধারা ৪৬ অনুযায়ী , প্রত্যেক নারী (শর্ত সাপেক্ষে) ১২০ দিন ছুটি পাবেন (সম্ভাব্য EDD তারিখের আগে ৬০ দিন ও পরে ৬০ দিন) কিন্তু ইপিজেড অধ্যাদেশের ধারা- ৩০ অনুযায়ী প্রত্যেক নারী (শর্ত সাপেক্ষে) ১১২ দিন ছুটি পাবেন (সম্ভাব্য EDD তারিখের আগে ৮ সপ্তাহ ও ৮ সপ্তাহ) ।
এখানে উল্লেখ্য যে শ্রম বিধিমালা সংশোধণী ২০২২ ও শ্রম আইন সংশোধণী ২০২৬ এর পূর্বে শ্রম আইনে মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ ( ১৬ সপ্তাহ) ছিল।
যদি ও মাতৃত্বকালীন ছুটিকে প্রসূতিকল্যান সুবিধা হিসেবে গন্য করা হয়ে থাকে কারন শর্ত সাপেক্ষে এই সুবিধা প্রদান বাধ্যতামূলক নয় ।
৭. বিনা মজুরিতে ছুটি – শ্রম আইনের ধারা ৪৬(২) ও বিধি ৩৮) এবং ইপিজেড আইনের ধারা ৩০ ও বিধি ৩৪ অনুযায়ী, দুটি সন্তান জীবিত থাকলে সুবিধা বা কোনো টাকা পাবে না কিন্তু তার প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটি পাবে। বাৎসরিক ও অসুস্থ্য জনিত ছুটির সাথে সমন্নয় করার পরও যদি প্রয়োজন পড়ে। আর সেই ছুটি পাবেন বিনা মজুরিতে।
৮.গর্ভপাত জনিত ছুটি – বিধি ৩৮(ক) অনুযায়ী ও ইপিজেড আইনের শ্রম বিধি ৩৫ এর ৪ (চ) অনুযায়ী, যদি কোনো গর্ভবতী গর্ভপাত ঘটে তাহলে ৪ সপ্তাহ ছুটি কাটাতে পারবে।এই ছুটি অন্য কোনো ছুটির সাথে সমন্বয় করা যাবে না এবং মজুরি পাবে।
৯. ক্ষতিপূরণ মূলক ছুটি – শ্রম আইনের ধারা ১০৩ ও ধারা ১০৪ অনৃুযায়ী যদি কোন শ্রমিক সাপ্তাহিক ছুটি না পায় শ্রম আইনের বিধি ১০১ অনুযায়ী অনুযায়ী পরর্বতী ৩ দিনের মধ্যে তাকে ক্ষতিপূরণমূলক সমপরিমান ছুটি দিতে হবে।।
কিন্তু ইপিজেড আইন এর ধারা-৪১ অনুযায়ী যদি কোন শ্রমিক সাপ্তাহিক ছুটি না পায় তবে ইপিজেড আইন এর ধারা-৪২ অনুযায়ী পরর্বতী ৬ দিনের মধ্যে তাকে ক্ষতিপূরণমূলক সমপরিমান ছুটি দিতে হবে।
১০. পেশাগত ব্যধির জন্য অস্থায়ী অক্ষমতা জনিত ছুটি।– শ্রম আইনের ধারা ১৫০ (৪) অনুযায়ী ৫ম তফসিল এবং ইপিজেড আইনের ধারা ৭৪ অনুযায়ী ৫ম তফসিল এ উল্লেখিত দীর্ঘকাল স্থায়ী পেশাগত ব্যধির জন্য বিশেষ বিবেচনায় ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশক্রমে সর্বোচ্চ ২ বৎসর ।
১১. বদলী ছুটি। – শ্রম আইনের বিধি ১০৯(২) ও ইপিজেড আইনের বিধি ১১৮(২) অনুযায়ী একই পরিবারের অধিক সংখ্যক লোক নিয়োজিত থাকলে একজনের প্রাপ্য ছুটি শেষ হলে অন্য জনের ছুটি ভোগ করার সুবিধা।