আমাদের দেশে মৌখিকভাবে একটি নিয়ম প্রচলিত রয়েছে বিশেষ করে স্ট্যাফদের জন্য তা হল- যে কোন কর্মী মাসে তিন দিন বিলম্বে অফিসে প্রবেশ করলে উক্ত কর্মীর ১ দিনের হাজিরা কর্তন করা হবে। কিন্তু আইনগত এর ভিত্তি নেই।
এক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য হাজিরা বোনাস কাটা হয় যদি হাজিরা বোনাস পলিসিতে উল্লেখ থাকে।যদিও আইনে কোথায় ও হাজিরা বোনাস দিতে হবে বা কত টাকা দিতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারা-১২৬ (১) বলা হয়েছে
ধারা ১২৫ (২) (খ) এর অধীন কর্মস্থল হইতে অনুপস্থিতির কারণে কোন শ্রমিকের মজুরী হইতে কর্তন কেবল তখনই করা যাইবে যখন তাহার নিয়োগ এর শর্তানুযায়ী কাজ করার কথা তখন যদি তিনি সমস্ত সময়ের জন্য অথবা উহার কোন অংশের জন্য অনুপস্থিত থাকেন।
অর্থাৎ একজন শ্রমিক কাজের কোন অংশের জন্য অনুপস্থিত থাকেন বা যেটুকু সময় বিলম্বে কাজে যোগদান করবেন ঠিক উক্ত সময়ের জন্য মজুরী কর্তন করা যাবে।
তবে শ্রম আইনের ধারা ১১১(১১) অনুযায়ী , কোন শ্রমিক নির্ধারিত সময়ের আধা ঘন্টা (৩০ মিনিট) পর কাজে হাজির হলে মালিক উক্ত শ্রমিককে উক্ত দিনের কাজে না দিতে পারেন।
বিলম্বে উপস্থিতি বা অনুমোদিত কম কর্মঘন্টার জন্য মজুরী কর্তন
এ ক্ষেত্রে আপনি উক্ত শ্রমিকের মাসিক বেসিক বেতনকে ৩০ দ্বারা ভাগ দিলে ০১ দিনের বেসিক পাবেন।
তারপর উক্ত ০১ দিনের বেসিক মজুরী কে ০৮ (যেহুত কর্মঘন্টা ০৮ ঘন্টা) দিয়ে ভাগ করে ০১ ঘন্টার বেসিক পাবেন।
এখন শ্রমিক যত ঘন্টা কাজে উপস্থিত ছিলনা উক্তা ঘন্টা এর সাথে ০১ ঘন্টার বেসিক গুন করে যা পাবেন তা কর্তন করা যাবে।
উদাহরনঃ
০১ জন শ্রমিকের মাসিক বেতন ১২৫০০ ও বেসিক বেতন ৬৭০০ টাকা। উনি উক্ত মাসে ০৫.৪৫ ঘন্টা কর্তব্য কাজে অনুপস্থিত ছিলন। তবে উনার কত টাকা কাটা যাবে?
উত্তরঃ
১ দিনের বেসিক মজুরী = (৬৭০০ টাকা /৩০ দিন)=২২৩.৩ টাকা
১ ঘন্টার বেসিক মজুরী = (২২৩.৩ টাকা / ০৮ ঘন্টা) = ২৭.৯২ টাকা
মোট কর্তনকৃত টাকার পরিমান হবে,
২৭.৯২ টাকা * ০৫.৪৫ ঘন্টা = ১৫২.১৪ টাকা