উত্তরঃ
বাংলাদেশ শ্রম আইন এর ধারা ৬২(১) ও ইপিজেড বিধি ১০৩(১) অনুযায়ী ,
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিতভাবে অগ্নিকান্ডের সময় প্রত্যেক তলার সাথে সংযোগ রক্ষাকারী অন্ততঃ একটি বিকল্প সিঁড়িসহ বহির্গমনের উপায় এবং প্রত্যেক তলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন এর বিধি ৫৪(১ , ২) ও ইপিজেড বিধি ১০৩(২) অনুযায়ী ,
প্রতিষ্ঠান ভবনের প্রতিটি কক্ষ যেইস্থানে ২০ (বিশ) জনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি কাজ করেন সেইস্থানে অন্যূন ২ (দুই) টি করিয়া বহির্গমন পথ থাকিতে হইবে এবং উক্ত পথ এইরূপভাবে অবস্থিত থাকিবে যাহাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তাহার কাজের স্থান হইতে বহির্গমন পথ পর্যন্ত বাঁধাহীনভাবে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে পৌঁছাইতে পারে ।
এবং উক্তরূপ বর্হিগমন পথ কোনো শ্রমিকের কাজের স্থান হইতে ৫০ (পঞ্চাশ) মিটারের অধিক দূরতে হইবে না এবং উহা প্রন্থে ১.১৫ মিটার এবং উচ্চতায় ২.০০ মিটারের কম হইতে পারিবে না।
বাংলাদেশ শ্রম আইন এর ধারা ৬২(৩) ও ইপিজেড বিধি ১০৩(৫,৬) অনুযায়ী ,
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে কোন কক্ষ হইতে বহির্গমনের পথ তালাবদ্ধ বা আটকাইয়া রাখা যাইবে না, যাহাতে কোন ব্যক্তি কক্ষের ভিতরে কর্মরত থাকিলে উহা তৎক্ষণাৎ ভিতর হইতে সহজে খোলা যায়, এবং এই প্রকার সকল দরজা, যদি না এইগুলি স্লাইডিং টাইপের হয়, এমনভাবে তৈরী করিতে হইবে যেন উহা বাহিরের দিকে খোলা যায়, অথবা যদি কোন দরজা দুইটি কক্ষের মাঝখানে হয়, তাহা হইলে উহা ভবনের নিকটতম বহির্গমন পথের কাছাকাছি দিকে খোলা যায়, এবং এই প্রকার কোন দরজা কক্ষে কাজ চলাকালীন সময়ে তালাবদ্ধ বা বাধাগ্রস্থ অবস্থায় রাখা যাইবে না।
(৩ক) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে কর্মকালীন অবস্থায় কোন কক্ষ হইতে বহির্গমনের পথ তালাবদ্ধ বা আটকাইয়া রাখা যাইবে না এবং বহির্গমনের পথ বাধাগ্রস্থ কিংবা পথে কোন প্রতিবন্ধকতাও তৈরী করা যাইবে না।
(৩খ) কোন কর্মকক্ষের ভিতর হইতে তাৎক্ষণিকভাবে এবং উহা বাহিরের দিকে খোলা যায় এমনভাবে সকল দরজা তৈরী করিতে হইবে।
(৩গ) যদি কোন দরজা দুইটি কক্ষের মাঝখানে হয়, তাহা হইলে উহা ভবনের নিকটতম বহির্গমনের পথের কাছাকাছি খোলা যায় এইরূপভাবে তৈরী করিতে হইবে এবং এইরূপ সকল দরজা কক্ষে কাজ চলাকালীন তালাবদ্ধ বা বাধাগ্রস্থ অবস্থায় রাখা যাইবে না।
বাংলাদেশ শ্রম আইন এর ধারা ৬২(৪, ৫,৬,৭) ও ইপিজেড বিধি ১০৩(১২,১৩,১৪,১৫) অনুযায়ী ,
- প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে সাধারণ বহির্গমণের জন্য ব্যবহৃত পথ ব্যতীত অগ্নিকান্ড কালে বহির্গমনের জন্য ব্যবহার করা যাইবে- এরূপ প্রত্যেক জানালা, দরজা বা অন্য কোন বহির্গমন পথ স্পষ্টভাবে লাল রং দ্বারা বাংলা অক্ষরে অথবা অন্য কোন সহজবোধ্য প্রকারে চিহ্নিত করিতে হইবে।
- প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে, উহাতে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিককে অগ্নিকান্ডের বা বিপদের সময় তৎসম্পর্কে হুশিয়ার করার জন্য, স্পষ্টভাবে শ্রবণযোগ্য হুশিয়ারী সংকেতের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে।
- প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কক্ষে কর্মরত শ্রমিকগণের অগ্নিকান্ডের সময় বিভিন্ন বহির্গমন পথে পৌঁছার সহায়ক একটি অবাধ পথের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।
- যে প্রতিষ্ঠানে উহার নীচ তলার উপরে কোন জায়গায় সাধারণভাবে দশজন বা ততোধিক শ্রমিক কর্মরত থাকেন, অথবা বিস্ফোরক বা অতিদাহ্য পদার্থ ব্যবহৃত হয়, অথবা গুদামজাত করা হয়, সে প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ডকালে বহির্গমনের উপায় সম্পর্কে সকল শ্রমিকেরা যাহাতে সুপরিচিত থাকেন এবং উক্ত সময়ে তাহাদের কি কি করণীয় হইবে, তৎসম্পর্কে তাহারা যাহাতে পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ লাভ করিতে পারেন সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন এর বিধি ৫৪(৩) ও ইপিজেড বিধি ১০৩(৩) অনুযায়ী ,
যেক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের ভবনে বা ভবনের কোন অংশে নিচতলার উপরে কোন সময় ২০ বা ততোধিক শ্রমিক কাজ করিয়া থাকেন অথবা যেখানে দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় বা জমা রাখা হয় অথবা প্রতিষ্ঠানের ভবন বা উহার অংশ ভূ-সমতলের নিচে অবস্থিত, সেই ক্ষেত্রে জরুরি মূহুর্তে বাহির হইবার উপায়ের মধ্যে ভবনের ভিতরে বা বাহিরে স্থায়ীভাবে নির্মিত কমপক্ষে দুইটি মজবুত এবং পৃথক সিঁড়ির ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকিবে এবং এইগুলি অগ্নি প্রতিরোধক পদার্থ দ্বারা নির্মাণ এবং সরাসরি ও বাঁধাহীন যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্বলিত হইতে হইবে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন এর বিধি ৫৪(৪,৬) ও ইপিজেড বিধি ১০৩(৭) অনুযায়ী ,
আগুন লাগিলে বাহির হইয়া যাইবার জন্য ব্যবহৃত
- প্রত্যেকটি সিঁড়ি মজবুত হ্যান্ড রেইলযুক্ত থাকিবে;
- প্রত্যেকটি সিঁড়ি এবং উহার রেইল তাপ অপরিবাহী ও অগ্নি প্রতিরোধক পদার্থ দ্বারা নির্মাণ করিতে হইবে;
- প্রত্যেকটি সিঁড়ি অমসৃন হইতে হইবে; এবং
- সমতল হইতে ৪৫° কোণের অধিক কৌণিক দূরত্বে নির্মাণ করা যাইবে না।
তবে বাংলাদেশ শ্রম আইন এর বিধি ৫৪(৫) অনুযায়ী,
উক্তরূপ সিঁড়ি এই বিধিমালা বলবৎ হইবার পরে নির্মিত হইলে উহার উভয় পার্শ্বে হ্যান্ড রেইল যুক্ত থাকিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালা বলবৎ হইবার পূর্বে নির্মিত সিঁড়িসমূহ যদি উভয় পার্শ্বে রেইল যুক্ত না হইয়া থাকে তাহা হইলে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে উহা উভয় পার্শ্বে রেইল যুক্ত করিতে হইবে
আরও শর্ত থাকে যে, যদি উক্ত সিঁড়ি রেলিং স্থাপনের জন্য প্রশস্ততা ১.১৫ মিটারের কম হইলে এই শর্ত প্রযোজ্য হইবে না।
বাংলাদেশ শ্রম আইন এর বিধি ৫৪(৭) ও ইপিজেড বিধি ১০৩(৮) অনুযায়ী ,
ছয় তলা পর্যন্ত উচ্চতা বিশিষ্ট ভবনের কোন সিঁড়ি ১.১৫ মিটারের কম প্রশস্ত হইবে না এবং ষষ্ঠ তলার অধিক উচ্চতাসম্পন্ন ভবনের সিঁড়ি ২.০০ মিটারের কম প্রশস্ত হইবে না এবং বহুতল বিশিষ্ট কারখানা ভবনের ক্ষেত্রে স্প্রিঙ্কলার ব্যবস্থাবিহীন বিল্ডিং এবং স্প্রিঙ্কলার ব্যবস্থা সম্বলিত বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালা জারির পূর্বে নির্মিত সকল বহুতল বিশিষ্ট কারখানা ভবনের ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে সিঁড়ির প্রশস্ততা কোনক্রমেই ১.১৫ মিটারের কম হইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, পুরাতন অবকাঠামোজনিত কারণে যেখানে সিঁড়ির প্রশস্ততা বাড়ানোর সুযোগ নেই সেই ক্ষেত্রে সিড়ির প্রশস্ততা ০.৮২ মিটারের কম হইবে না।
বাংলাদেশ শ্রম আইন এর বিধি ৫৪(৮,৯,১০) ও ইপিজেড বিধি ১০৩(৯,১০,১১) অনুযায়ী ,
- দুইটি বহির্গমন পথ বা সিঁড়ি ৫০ মিটারের অধিক দূরত্বে এবং পরস্পরের সন্নিকটে হইবে না এবং কমপক্ষে অর্ধেক সংখ্যক সিঁড়ির শেষ প্রান্ত ভবনের বহির্মুখী হইতে হইবে।
- সিঁড়িতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও আলোর ব্যবস্থা থাকিতে হইবে যেন সিড়িটি ধোঁয়াচ্ছন্ন বা অন্ধকারাচ্ছন্ন না হইতে পারে এবং চিলেকোঠায় অবস্থিত দরজা কাজ চলাকালীন বন্ধ বা তালাবদ্ধ রাখা যাইবে না।
- প্রতিটি ফ্লোরের ন্যূনতম একটি গ্রীলবিহীন জানালা থাকিবে যা কজাসংযুক্ত হইতে হইবে এবং যাহাতে জরুরি প্রয়োজনে খুলিয়া লেডার বা দড়ির মই এর সাহায্যে নীচে নামিয়া আসা যায় এবং নীচ তলায় শক্ত দড়ির জাল সংরক্ষণ করিতে হইবে যাহাতে অগ্নি দুর্ঘটনার সময় জরুরি প্রয়োজনে দড়ি বহিয়া উক্ত জালে অবতরণ করা যায়।