পরিবেশ আইন ও বিধি এবং যাবতীয়

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাইটটিতে ভিজিট করতে ক্লিক করুন

পরিবেশ আইন , বিধি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন ও উত্তরসমূহ

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫

পরিবেশ সংরক্ষন বিধিমালা ১৯৯৭

পরিবেশ ও বন মন্ত্রালয় কর্তৃক পরিবেশ ছাড়পত্রের কমলা- খ শ্রেনী তে “পোষাক ও সোয়েটার প্রস্তুতবাতিলকরন প্রজ্ঞাপন , বুধবার , অক্টোবর ৩, ২০০৭

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০

পরিবেশ ছাড়পত্রের শ্রেনী সংশোধন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন(এসআরও) – রবিবার , ডিসেম্বর ২৪ , ২০১৭

জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮

পরিবেশ আদালত আইন, ২০০০

বায়ুদূষন বিধি নিয়ন্ত্রন নীতিমালা ২০২২

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি , ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

EIA Guideline for Industriesপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়

বায়ুদূষণ রোধে নির্দেশিকা – পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়

Bio-safety Guidelines of Bangladesh – পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়

পরিবেশ আইন সংক্রান্ত মোঃ এমদাদুল হক (লিগ্যাল স্পেশালিষ্ট) কর্তৃক প্রকাশিত একটি বই এর ভূমিকা সংক্রান্ত আলোচনাটি হুবহু তুলে ধরা হল;

সভ্যতার অগ্রগতির অনুষঙ্গ হিসেবে শত শত বছর ধরে বিশ্বব্যাপী পরিবেশের ব্যাপক অবক্ষয় এবং দূষণ ঘটে চলেছে ।। ফলে ব্যাহত হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন। হুমকির সম্মুখীন মানব সভ্যতার সুষ্ঠু বিকাশ, এমনকি মানবজাতিসহ অন্যান্য প্রাণী এবং উদ্ভিদের অস্তিত্ব । বলা বাহুল্য পরিবেশের অবক্ষয় রোধ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মানুষেরই। এ বিষয়ে সচেতনতা পূর্বে যে ছিল না এমন নয়, তবে তা ছিল অপ্রতুল ও অসমন্বিত। সামগ্রিক ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে অনেক বিলম্বে। এ ক্ষেত্রে বিগত শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানাবিধ চিন্তাভাবনা ও বাস্তব কর্মকাণ্ড। সেই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশও এক সক্রিয় অংশীদার। ফলশ্রুতিতে জারী হয় Environment Pollution Control Ordinance, 1977 এবং গঠিত হয় Environment Pollution Control Board যার উত্তরসূরী আজকের পরিবেশ অধিদপ্তর।

প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিবেশ অধিদপ্তর অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট আইনকানুন বাংলাদেশে নতুন বা সংখ্যায় নিতান্ত কম নয় যুগ যুগ ধরে পরিবেশের নানা বিষয়ে বহু সংখ্যক আইন কানুন জারী হয়েছে। বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে এদের প্রয়োগও হয়ে আসছে। তবে পরিবেশ যে একটি সামগ্রিক বিষয় সে ধারণা লক্ষ্য করা যায় না এসব আইনে।

বাংলাদেশে পরিবেশের সামগ্রিকতার ধারণাটি প্রথম জাতীয়ভাবে স্বীকৃত ও ঘোষিত হয় জাতীয় পরিবেশ নীতি, ১৯৯২ এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমে, যার এক গুরুত্বপূর্ণ ফসল বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫। পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবেশগত মান উন্ননয়ন এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রশমনের বৃহত্তর লক্ষ্যে প্রণীত আইনটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপর। একই উদ্দেশ্যে জারী হয়েছে পরিবেশ সংরক্ষন বিধিমালা ১৯৯৭ । তাছাড়া পরিবেশ আইন লংঘনজনিত অপরাধ ও ক্ষতিপূরণের দাবী সংক্রান্ত মামলার বিচারের জন্য প্রণীত হয়েছে পরিবেশ আদালত আইন, ২০০০। এই আইনের সংজ্ঞায় উপরোক্ত দুটি আইন এবং বিধিমালাকে আদালতের কার্যক্রমের ব্যাপারে “পরিবেশ আইনরূপে” চিহ্নিত করা ছাড়াও অন্যান্য অনুরূপ আইন চিহ্নিত ও ঘোষণা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সরকারকে। এ পর্যন্ত অন্যান্য আইন চিহ্নিত করা না হলেও কয়েকটি আইনে যেমন ইট পোড়ানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৮৯, Building Construction Act, ১৯৫২ এবং তদধীনে প্রণীত বিধিমালার আওতায় অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ক্ষমতা রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব আইন ও বিধিমালার কিছু কিছু সংশোধন ছাড়াও, আইনগুলি প্রয়োগের সুবিধার্থে জারী হয়েছে বেশ কিছু প্রজ্ঞাপন, আদেশ, নির্দেশ, ঘোষণা, পরিপত্র ও বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি।

বস্তুতঃ সমাজের প্রয়োজনে আইন ও আইনগত দলিলাদি প্রণয়ন, সংশোধন, প্রতিস্থাপন, বাতিলকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্রুত অগ্রসরমান পরিবেশ ভাবনার প্রেক্ষিতে এই চলমানতার প্রয়োজন আরও বেশী। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপর ন্যস্ত ব্যাপক আইনগত দায়িত্ব ও বাস্তব প্রয়োজনের নিরিখে ইতোপূর্বে কোন সংকলন তৈরী হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি এখতিয়ারভুক্ত বা সংশ্লিষ্টতাসম্পন্ন আইন ও আইনগত দলিলগুলি সম্পর্কে যাতে ওয়াকেবহাল থাকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাঠের সহজ সুযোগ পান, সেই সীমিত লক্ষ্যে “পরিবেশ আইন সংকলন” গ্রন্থিত হলো। তবে পরিবেশ কর্মী ছাড়াও এই সংকলন পরিবেশ আইন বিষয়ে আগ্রহী এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তি ও সংগঠনের কাজে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।

পাঁচ ভাগে বিভক্ত এই সংকলনের ১ম ভাগে রয়েছে পাদটীকাসহ হাল নাগাদ সংশোধিত ১১ টি আইন ও বিধিমালা, যথাঃ- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, পরিবেশ আদালত আইন, ২০০০, পরিবশে সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭, ইট পোড়ানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৮৯, ইট পোড়ানো ১৯৯৬, মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০, Motor Vehicles: Ordinance, 1983 (Extracts), Motor Vehicles Rules, 1940 (Extracts) Ges Code of Criminal Proce dure, 1898 (Extracts) |

পরিবেশের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত বিবেচনা করে ২য় ভাগে তিনটি প্রধান আইন যথা- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫, পরিবেশ আদালত আইন, ২০০০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ এর Up to date unofficial English Version অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। অনুসন্ধিৎসু পাঠকের সুবিধার্থে ৩য় ভাগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মূল আইন, সংশোধনকারী আইনসমূহ

এবং রহিতকৃত ১৯৭০ ও ১৯৭৭ সনের দুটি অধ্যাদেশ। ৪র্থ ভাগে আছে, ১৯৯৫ ও ২০০০ সনের উক্ত আইন দুটির অধীনে জারীকৃত বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন, ক্ষমতার্পন, নির্দেশ, বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ ইত্যাদি। আর ৫ম ভাগে আছে এসকল আইনের মূল ভিত্তি সরকার কর্তৃক গৃহীত পরিবেশ নীতি, ১৯৯২ এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম।

সংকলনটি তৈরীতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মাননীয়ের সচিব জনাব সাবিহউদ্দিন আহমেদের উৎসাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক জনাব মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং BEMP সহকর্মীগণ বিশেষতঃ Ms. Linda Duncan, ল এডভাইজার ও সৈয়দ মোঃ ইকবাল আলী, কনসালটেন্ট এর পরামর্শ ও সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি। সংকলনটি মুদ্রিত আকারে প্রকাশের জন্য কম্পিউটার কম্পোজ করতে সার্বক্ষণিক সহায়তা দিয়েছেন এই প্রকল্পের সেক্রেটারিয়াল সার্ভিস এ্যাসিসটেন্ট জনাব মোঃ শফিকুল বারী এবং সংকলনের বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ, প্রুফ রিডিং ও আনুষঙ্গিক সহায়তা করেছেন তরুণ এ্যাডভোকেট আশিকুল খবির। প্রচ্ছদ তৈরী করেছেন BEMP এর সহকর্মী কনসালটেন্ট ডঃ নূর “নেওয়াজ। স্বল্প সময়ের মধ্যে সংকলনটি মুদ্রণ করেছে প্রগতি প্রিন্টার্স। অপরিহার্য এই সব সহযোগিতার জন্য তাদেরকে জানাই

আন্তরিক ধন্যবাদ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সংকলনে মুদ্রণ প্রমাদসহ কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকা অস্বাভাবিক নয়। অপূর্ণতাও থাকতে পারে বিষয়ে নির্বাচনে। পরবর্তী সংস্করণ প্রকাশের সময়ে সংকলনটি যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত এবং পূর্ণাঙ্গ করার প্রত্যাশায় সহৃদ্যা পাঠকের যে কোন পরামর্শকে স্বাগত জানাচ্ছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দের দায়িত্ব পালন এবং পরিবেশের আইনগত বিষয়ে অন্যান্যদের প্রয়োজন মেটাতে ন্যূনতম সহায়ক হলেও এ প্রয়াস সার্থক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Get 30% off your first purchase

X
error: Content is protected !!